উত্তর:-
ভূপৃষ্ঠে অর্থাৎ পৃথিবীর উপর সমুদ্র,নদ নদী , বিভিন্ন জলাশয় ,বরফ সহ সমস্ত জলকে একসাথে বলা হয় বারিমন্ডল।উত্তর:-
বারিমন্ডল থেকে অর্থাৎ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে জল সূর্য তাপে বাষ্পীভূত হয়ে জলীয়বাষ্প অর্থাৎ মেঘ রূপে বায়ুমন্ডলে যায় এবং বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত রূপে ঘনীভূত হয়, অর্থাৎ পৃথিবীপৃষ্ঠের জল পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে একে জলচক্র বলে।৩. ভূপৃষ্ঠে জলের প্রধান উৎস কি?
উত্তর:-
তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত।৪. নদী, উপনদী ও শাখা নদী কাকে বলে?
উত্তর:-
নদী:কোন পার্বত্য বা উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে স্বাভাবিক জলধারা ভূমির ঢাল অনুসরণ করে প্রবাহিত হয়ে সাগর, মহাসাগর ও কোন বিশাল জলাশয়ে এসে পরে একে নদী বা প্রধান নদী বলে।
উপনদী:যে অপ্রধান বা ছোট নদী কোন উচ্চ স্থান থেকে প্রধান নদীতে এসে মিলিত হয় তাকে উপনদী বলে।
শাখা নদী:যে ছোট নদী প্রধান নদী থেকে বেরিয়ে বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে আবার প্রধান নদী তে ফিরে আসে বা কোন সমুদ্র বা মহাসাগরে গিয়ে পড়ে তাকে শাখা নদী বলে।উত্তর:-
নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর উভয় পাশের কিছুটা অংশ নদী উপত্যকা নামে পরিচিত।৬. নদী অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর:-
একটি নদী ও তার উপনদী শাখানদী সমগ্র যে অঞ্চলের উপর অবস্থান করে। সেই অঞ্চলটিকে বলা হয় নদী অববাহিকা।৭. ভারতের সবচেয়ে বড় নদী অববাহিকা কোনটি?
উত্তর:-
ভারতের গঙ্গা নদী অববাহিকা বৃহত্তম।৮. নদীর কয়টি গতি আলোচনা কর?
উত্তর:-
নদীর তিনটি গতি
উচ্চগতি:-নদীর উৎস থেকে ঢালু পার্বত্য ভূমির উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে বয়ে চলা নদীর গতিপথ কে উচ্চগতি বলে।
০ নদীর উচ্চগতি সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে সম্পন্ন হয়।
০ উচ্চগতিতে নদী ক্ষয় ও বহন কাজ করে। কিন্তু নিম্ন ক্ষয় বেশি করে।
০ উচ্চগতিতে নদী 'V' ও 'I' আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে।
মধ্যগতি:-পার্বত্যভূমি ছেড়ে নদী সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এই অংশের নাম এই অংশের নাম মধ্যগতি।
০ মধ্যবর্তী সাধারণত সমভূমির উপর সম্পন্ন হয়।
০ মধ্যবর্তীতে নদী ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় তিনটি কাজই করে। কিন্তু পার্শ্ব ক্ষয় বেশি করে।
০ মধ্য গতিতে নদী অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, স্বাভাবিক বাঁধ ও নদী বাঁক সৃষ্টি করে।
নিম্নগতি:-সমভূমি ছেড়ে নদীর মোহনার কাছাকাছি চলে আসে এবং খুব ধীর গতিতে প্রবাহিত হয় এই গতিপথ কেই বলে নদীর নিম্নগতি।
০ সমভূমি ও নদীর মোহনার কাছাকাছি পর্যন্ত নদীর নিম্নগতি সম্পন্ন হয়।
০ নিম্ন গতিতে নদীর সঞ্চয় কাজ করে।
০ নিম্ন গতিতে নদী বালুচর ও বদ্বীপ গঠন করে।৯. উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে নদী দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ লিখ?
বা
নদীর ক্ষয় কাজ সম্পর্কে লিখ?(৫ নম্বর)
উত্তর:-
নদী পার্বত্য অঞ্চলে অর্থাৎ নদীর উচ্চ গতিতে ক্ষয় কার্যের ফলে যে সকল ভূমিরূপ গুলি গঠন করে সেগুলো হল-
V আকৃতির উপত্যকা-পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতি প্রায় বেশি থাকায় নিম্নে ক্ষয় বেশি করে। নদীর দুই পাশের ক্ষয় খুব কম করে এবং ইংরেজি V আকৃতির মতো নদী উপত্যকা সৃষ্টি করে একে V আকৃতির উপত্যকা বলে।
গিরিখাত ও ক্যানিয়ন-নদীর কেবল নিম্ন ক্ষয়ের ফলে যে গভীর ও অতি ছোট নদী উপত্যকা তৈরি হয় তাকে গিরিখাত বলে।
নেপালের হিমালয়ের কালী গণ্ডকী গিরিখাত গভীরতম (৫৫৭১মি.)
নদী পার্বত্য অঞ্চলের উপরে প্রবাহিত হওয়ার সময় পার্শ্বক্ষয় এর থেকে নিম্নক্ষয় বেশি করে ফলে যে ভূমিরূপটি গঠিত হয় সেটি ইংরেজি 'I' আকৃতির ভূমিরূপ তৈরি করে,একে ক্যানিয়ন বলে।
কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ডক্যানিয়ন পৃথিবীর দীর্ঘতম ক্যানিয়ন
জলপ্রপাত-নদীর প্রবাহ পথে পার্বত্য অঞ্চলে উঁচু ঢাল বেয়ে যে জলপ্রবাহ নিচে প্রবল বেগে পরে তাকে জলপ্রপাত বলে।১০. মধ্য ও নিম্নগতিতে সৃষ্টি নদীর ভূমিরূপ?
বা
নদীর বহন ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ?(পূর্ণমাণ-৫)
উত্তর:-
মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদী বিশেষত সঞ্চয় কার্য করে এবং যেসব ভূমিরূপ সৃষ্টি করে সেগুলি হল-
অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ:-সমভূমিতে নদী নিজের ঢাল অনুসরণ করার জন্য এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়, যার ফলে নদী বাঁক সৃষ্টি হয়, কখনো কখনো ঘোড়ার পায়ের মতো দেখতে হয়। একে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ বলে।
নদীবাঁক:-নদী পার্বত্য অঞ্চল থেকে যখন সমভূমিতে আসে তখন নদীর ঢাল কম হওয়ার কারণে নদী এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় একে নদীবাঁক বলে।
স্বাভাবিক বাঁধ:-নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় দুই তীরে পলি বালি জমা করে তার ফলে যে বাঁধ সৃষ্টি হয় তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।
ব-দ্বীপ:-নদী যখন কোন সাগর বা সমুদ্রে গিয়ে পরে তখন নুরি,কাঁকর, পলি ও বালি নদীর মোহনায় জমে এবং বাংলার মাত্রাহীন 'ব' এর মতো ভূমিরূপ তৈরি করে।১১. নদীর মোহনায় বদ্বীপ গঠনের পরিবেশ?
কিভাবে বদ্বীপ গঠিত হয়?
উত্তর:-
নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত একটি ভূমিরূপ হল ব-দ্বীপ। বদ্বীপ গঠনের জন্য যেগুলো দরকার তা হলো-
১. মোহনায় নদী মৃদু বা হালকা ঢালে সমুদ্রে মিশলে পলি বালি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপ তৈরি হয়।
২. নদী অববাহিকা বড় বা সুদীর্ঘ গতিপথ যার ফলে প্রচুর পরিমানে পলি বালি বয়ে এনে মোহনায় জমা করে ফলে বদ্বীপ গঠিত হয়।
৩. নদীর মোহনা কম গভীর হওয়ার কারণে দ্রুত পলি বালি সঞ্চিত করে ব দ্বীপ গঠিত করে।
৪. বদ্বীপ গঠনের জন্য নদীর স্রোতের বিপরীতে বাতাস প্রবাহিত হওয়া প্রয়োজন।